গ্রিনল্যান্ড কিনতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র: ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের মার্কিন প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তারা যদি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সমর্থন না করে, তবে তাদের কঠোর অর্থনৈতিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। হোয়াইট হাউস দাবি করছে বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ জরুরি হলেও, গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্ব এবং ইউরোপীয় মিত্ররা এই প্রস্তাবকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
মূল ঘটনাপ্রবাহ:
• গ্রিনল্যান্ডের কঠোর অবস্থান: গ্রিনল্যান্ডের প্রিমিয়ার জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে দ্বীপটি "কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড একটি গণতান্ত্রিক সমাজ এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একমাত্র অধিকার তাদেরই রয়েছে।
• শুল্ক যুদ্ধের হুমকি: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, তার পরিকল্পনায় বাধা দিলে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস সহ আটটি মিত্র দেশের ওপর আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন শুল্ক বা ট্যাক্স আরোপ করা হবে।
• যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়া: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মার্কিন শুল্ক পরিকল্পনাকে "সম্পূর্ণ ভুল" বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি পাল্টা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং বলেছেন বাণিজ্য যুদ্ধ কারও স্বার্থেই ভালো ফল বয়ে আনবে না।
• নোবেল পুরস্কার বিতর্ক: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গোহর স্টোর নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ট্রাম্পের কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন। সেখানে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ায় তিনি আর "শুধুমাত্র শান্তির কথা ভাবতে" বাধ্য নন। নরওয়ে অবশ্য ব্যাখ্যা করেছে যে এই পুরস্কার সরকার নয়, বরং একটি স্বাধীন কমিটি দিয়ে থাকে।
সপ্তাহান্তের এই নাটকীয়তায় ইউরোপজুড়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে তারা ডেনমার্কের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে সামরিক ব্যবহারসহ "বিভিন্ন বিকল্প" বিবেচনা করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে গ্রিনল্যান্ডে ঘাঁটি তৈরি ও সেনা মোতায়েনের ব্যাপক সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিমধ্যেই রয়েছে।
রাজনৈতিক এই অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতির ওপরও পড়েছে। বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা ভীত হওয়ায় ইউরোপজুড়ে শেয়ার বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে
Comments
Post a Comment